শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক : রামু উপজেলায় মহামারি করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ ৬ হাজার ৬৮৪ সদস্যের ১২ শতটি পরিবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আনন্দ’ এ গৃহিত একটি প্রকল্পের অধিনে কৃষি ও অকৃষি উপকরণ বিতরণ ও প্রশিক্ষণ সহায়তা, পারিবারিক সবজি বাগান ও হাঁস-মুরগি-গবাদিপশু পালনের মাধ্যমে করোনা মহামারিসৃষ্ট জীবিকা ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পেরেছেনেএসব পরিবার।
বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে আয়োজিত প্রকল্পের অর্জিত অভিজ্ঞতা বিনিময় শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশামায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।
সভায় প্রধান অতিথি সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মনিরুজ্জামান মিয়া বলেন, করোনা মহামারির কারণে ২০২১ সালে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত উখিয়া ও রামু উপজেলা কাছাকাছি হওয়ায় এখানে অনিবন্ধিত অনেক রোহিঙ্গা বসবাস করে। রোহিঙ্গাদের সস্তা শ্রমে নিয়োগ করার কারণে শ্রমবাজারে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের জন্য বিনা মূল্যে খাদ্য বিতরণ করলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ তখন চোখে পড়েনি। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত রামুতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চাহিদা বিবেচনায় একটি সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে আনন্দ ২০২১ সালের নভেম্বরে কৃষি ও অকৃষিভিত্তিক জীবিকা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে তিন বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প শুরু করে। জানিয়ে তিনি বলেন, জার্মানিভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফে (ডব্লিউএইচএইচ) এবং জার্মান ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক কো–অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিএমজেড) এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ও খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ১ হাজার ২০০ পরিবারের সঙ্গে কাজ শুরু করে। এতে ওই সব পরিবারকে কৃষি ও অকৃষি উপকরণ বিতরণ ও প্রশিক্ষণ সহায়তা, পারিবারিক সবজি বাগান ও হাঁস-মুরগি-গবাদিপশু পালনের দক্ষতা বাড়ানো হয়।
মনিরুজ্জামান মিয়া জানান, প্রকল্পের ৩ বছরে শেষে পরিবারগুলোর ৫৯ শতাংশ আয় বৃদ্ধি, পাঁচ বছর মেয়াদি পারিবারিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের হার ৮৫ শতাংশ, ৯৪ শতাংশ পরিবারের পারিবারিক সবজি বাগান করা। সবজি বাগান, গবাদিপশু পালন ও উন্নত চাষাবাদের পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে পারিবারিক আয়ের উৎস সৃষ্টি করেছে। জীবিকা অর্জনে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির মাধ্যমে আয় সুসংহত হয়েছে। স্থানীয় ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবসার জন্য পুঁজি সংগ্রহ করার হার বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবারগুলোর আয় ও জীবিকা টেকসই হয়েছে।
সংস্থার হেড অফ প্রোগ্রামস এ কে এম আনোয়ার হোসেন মোল্লার সঞ্চলনায় কর্মশালায় উদ্বোধনী বক্তব্যে ডব্লিউএইচএইচ এর এরিয়া ম্যানেজার অক্টাভিয়ান সৈকত সরকার বলেন, ডব্লিউএইচএইচ ক্ষুধা মুক্ত একটি পৃথিবী তৈরি প্রত্যাশা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এই যাত্রা অনেক দূর এগিয়েছে। ক্ষুধা মুক্ত পৃথিবীর অন্যতম শর্ত পুষ্টিকর খাবার। প্রকল্পেটি করোনায় সৃষ্ট ক্ষতি কাটানোর পাশাপাশি পুষ্টি ও আয় নিশ্চিত করেছে।
এতে প্রকল্প প্রেজেন্টেশন করেছেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোঃ ইমামুল হাসান ইমাম। প্রকল্পের শেষে অর্জিত ফলাফল নিয়ে আলোচনা করেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ–উপাচার্য ড. সেকেন্দার আল।
এতে অতিথি ছিলেন, ডব্লিউএইচএইচ এর প্রোগাম প্রধান মাল্টে, ইউএনএইচসিআর এর জীবিকা কর্মকর্তা সুরতা চক্রবর্তী, ডব্লিউএইচএইচ এর অর্থ প্রধান নীলেমা জাহান,।
আলোচনায় অংশ নেন প্রকল্পের সুবিধাভোগী মোঃ ফিরিয়াদস, হামিদা বেগম, বেবী আক্তার, আজিজুল হক।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্যে রাখেন খুনিয়াপালং ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান জানে আলম, কক্সবাজার বিএনডিসির উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী শাহ কিবরিয়া মাহবুব তন্ময়, রামু উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ নুরা আলম মজুমদার, রামু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানজিলা রহমান, কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মমিনুল ইসলাম, রামু উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ অসীম বোরন সেন।
.coxsbazartimes.com
Leave a Reply